স্পোর্টস ডেস্ক : শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আইসিসি বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাই পর্বে চতুর্থ হওয়া স্কটল্যান্ডকে র্যাঙ্কিং বিবেচনায় বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ জানায়। পিসিবি এই সিদ্ধান্তকে অন্যায় দাবি করে বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে। দেশটির জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও বোর্ডের যেকোনো সিদ্ধান্তে সমর্থন দেবেন বলে বৈঠকে নিশ্চিত করেছেন।
আগামী সাত দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা। তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো পাকিস্তানের জন্য বেশ কিছু কারণে কঠিন, বলতে গেলে প্রায় অসম্ভব।
আইসিসির প্রতিটি পূর্ণ সদস্য দেশ বড় কোনো টুর্নামেন্টের অনেক আগেই একটি আইনি চুক্তি—টুর্নামেন্ট পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট (টিপিএ)স্বাক্ষর করে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান সরাসরি এই চুক্তি ভঙ্গ করবে। আইসিসি ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন হলে পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ স্থগিত করা হবে। এই অঙ্ক প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪২১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা)। নড়বড়ে অর্থনীতির মধ্যে থাকা পিসিবির জন্য আইসিসির মোট রাজস্ব পুলের প্রায় ৬ শতাংশ হারানো মানে বড়সড় আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া, যেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব।
‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’-এর ক্ষেত্রে আইসিসির শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। যদি এই বয়কটকে পুরোপুরি সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হয়, আইসিসি একে খেলাকে ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা বলে বিবেচনা করতে পারে। এর ফল হতে পারে—
পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। কিন্তু এর সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে বিদেশি তারকাদের অংশগ্রহণের ওপর।
পাকিস্তান যদি কোনো আইসিসি ইভেন্ট বয়কট করে, তাহলে আইসিসি ও অন্যান্য বোর্ড (যেমন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বা ইসিবি) পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলতে এনওসি দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনীতি মূলত দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ওপর দাঁড়িয়ে। আইসিসির সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস তথা বিশ্বকাপ ব্যাহত হলে পাকিস্তান বড় বোর্ডগুলোর রোষানলে পড়তে পারে, যাদের সঙ্গে সিরিজ তাদের জন্য লাভজনক হয়ে থাকে। বড় দলগুলোর হোম সিরিজ না পেলে পিসিবির নিজস্ব আয়ের প্রধান উৎস কার্যত সংকীর্ণ হয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন