
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে মস্কোর অন্যতম প্রধান সামরিক মিত্র হয়ে উঠেছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, তেহরান ইতিমধ্যে রাশিয়াকে ৩৫০টিরও বেশি ফাত-৩৬০ স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।
তবে অবাক করার মতো তথ্য হলো, যুদ্ধের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটিরও ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেনি ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। ২৬ জানুয়ারি ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (এইচইউআর) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র আন্দ্রি ইউসভ জানিয়েছেন, ইরানের সরবরাহ করা এই বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের অভ্যন্তরে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফাত-৩৬০ ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত একটি ট্যাকটিক্যাল বা কৌশলগত অস্ত্র, যার পাল্লা প্রায় ১২০ কিলোমিটার বা ৭৫ মাইল। এটি প্রায় ১৫০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রন্টলাইন বা যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি থাকা সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার জন্য এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর। রাশিয়া যদি এই সস্তা এবং কার্যকর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করত, তবে তারা তাদের নিজস্ব ব্যয়বহুল ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইউক্রেনের গভীর অভ্যন্তরে বড় হামলার জন্য জমিয়ে রাখতে পারত। কিন্তু কেন এই অস্ত্রগুলো এখনো ব্যবহার করা হয়নি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দারা মনে করছেন, এর পেছনে কারিগরি জটিলতা কিংবা রাজনৈতিক কোনো বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাশিয়ায় পৌঁছালেও সেগুলোর লঞ্চার বা উৎক্ষেপণ যন্ত্র সরবরাহে কোনো বিলম্ব হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া এই অস্ত্রের গুণগত মান কিংবা পরিচালনা পদ্ধতি নিয়েও রুশ বাহিনীর মধ্যে কোনো সংশয় থাকতে পারে।
লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ফ্যাবিয়ান হিনজ মনে করেন, চুক্তির শর্ত কিংবা কারিগরি ত্রুটির কারণেও এমনটা ঘটা সম্ভব। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া হয়তো তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে গোপনে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়ে থাকতে পারে।
রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক অংশীদারিত্ব নিয়ে গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান এর আগে রাশিয়াকে শত শত শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছিল। বর্তমানে এই ড্রোনগুলো রাশিয়ার ভেতরেই উৎপাদিত হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকেই ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও প্রায় ২০০টি বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার কথা ছিল রাশিয়ার। কিন্তু ফাত-৩৬০ এর মতো প্রভাবশালী অস্ত্রের অনুপস্থিতি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
সূত্র: কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট