ডেস্ক নিউজ : শিল্প খাত সক্ষমতা অর্জনের পর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে (এলডিসি) উত্তরণ করার উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, আর্থিক খাতের অবস্থা গুরুতর। ব্যাংকে টাকা নেই। এলসি করা যাচ্ছে না। শেয়ারবাজার মৃতপ্রায়। বন্দরের সক্ষমতায় ঘাটতি আছে। এ অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ সম্ভব নয়।
বিজিবিএ প্রেসিডেন্ট মোফাজ্জল হোসেন পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শওকত আজিজ রাসেল, বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ, জেএফকে ফ্যাশনসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কফিল উদ্দিন, বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলাম, বিকিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রাশেদ, বিকিএমইএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, অর্থনীতিবিদ এমএস সিদ্দিক, বিজিবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুর রহমান ফরহাদ, সেক্রেটারি জেনারেল জাকির হোসেন প্রমুখ।
আমির খসরু বলেন, ব্যবসার জন্য জরুরি হচ্ছে ‘ফিল গুড ফ্যাক্টর’। বিএনপি যতবারই ক্ষমতায় এসেছে ব্যবসার ক্ষেত্রে সেটি দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যদি দেখেন স্থিতিশীলতা নেই, বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ নেই, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহী হবেন না। বিএনপি সব সময়ই দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ফিল গুড ফ্যাক্টর নিশ্চিত করেছে।
আমির খসরু বলেন, বিএনপির স্লোগান অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন। অর্থনীতিতে যদি গণতন্ত্র না থাকে, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকে কারও হাতে, সেক্ষেত্রে অর্থনীতি বিকশিত হবে না। অর্থনীতিতে যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবেন তত বেশি দুর্নীতি হবে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ব্যবসাকে ডিরেগুলেট করবে, সিরিয়াস ডিরেগুলেট করবে। এতে করে উদ্যোক্তারা কমফোর্ট ফিল করবে। উৎপাদন খরচ কমবে। বাধাবিপত্তি যখন উদ্যোক্তাদের মাথা থেকে চলে যাবে তখন তারা ব্যবসায় ভালো করবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভিয়েতনাম কেন অর্থনীতিতে আমাদের ছাড়িয়ে গেল। তারা ডিরেগুলেট করেছে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে গ্রাজুয়েশনের কথা রয়েছে। এ বিষয়ে আমির খসরু বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পোস্টে দলীয় অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। আমাদের মৌলিক বিষয়গুলো এখনো সুরাহা হয়নি। আমাদের দেশে গণতন্ত্র উত্তরণ হয়নি। ১৫ মাস ধরে অনির্বাচিত সরকার, এখনো আমরা ঝুলে আছি। এই সরকার যে সবকিছু খারাপ করছে, তা বলছি না।
তবে সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই, জনগণের কাছে জবাবদিহি নেই। এ কারণে দেশের অর্থনৈতিক খাতে কোনো শৃঙ্খলা নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে কোনো শেয়ারবাজার আছে? দেশে ব্যবসার কোনো পলিসি আছে? ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো স্থিতিশীলতা আছে? এমতাবস্থায় এলডিসি উত্তরণ করে কী লাভ? আমাদের অবস্থান ক্লিয়ার, আমরা আগে ক্যাপাসিটি বিল্ড আপ করব। তারপর এলডিসি নিয়ে ভাবনা।
দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে নির্বাচিত সরকার দরকার উল্লেখ করে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত মরে যাচ্ছে। কারখানা বন্ধ হচ্ছে। মানুষ চাকরিচ্যুত হচ্ছে। আর সরকার চোখ বন্ধ করে বসে আছে। এই সরকার ব্যবসায়ীদের সহায়তায় কোনো পলিসি দিতে পারছে না। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট দেখে ফেলেছি।
এখন নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবমুক্তি দেন। ব্যবসায়ীরা ভালোভাবে ব্যবসা করতে চায়।’বিজিএমইএ’র পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডে অনেক স্যাম্পল পুড়ে গেছে। এ কারণে পরবর্তী মৌসুমে অর্ডার কমতে পারে। কিছু অর্ডার বাতিলের আশঙ্কাও রয়েছে।
মন্তব্য করুন