স্পোর্টস ডেস্ক : প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-নাসর সালাহকে দলে নেওয়ার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। তবে সম্ভাব্য এই চুক্তিতে কিছু অভ্যন্তরীণ প্রশ্নও রয়েছে, রোনালদোর পাশে সালাহ কতটা মানিয়ে নেবেন এবং পর্তুগিজ তারকা পাদপ্রদীপের আলো ভাগাভাগি করতে রাজি হবেন কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এসব সম্ভাব্য জটিলতা সত্ত্বেও পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) সালাহকে সৌদি লিগে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই ৩৩ বছর বয়সী সুপারস্টারকে শুধু ফুটবলার নয়, মধ্যপ্রাচ্যে ফুটবলের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আল-নাসরের শক্তিশালী আর্থিক সামর্থ্য থাকায় আধুনিক যুগের দুই সেরা আক্রমণভাগের তারকাকে একসঙ্গে খেলানোর স্বপ্ন বাস্তবসম্মত মনে হচ্ছে।
তবে আল-নাসর একা নয়। আরও চারটি সৌদি ক্লাব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখানো আল ইত্তিহাদ রোনালদোর দলের স্বপ্নপূরণে বড় হুমকি হতে পারে। আল ইত্তিহাদ এর আগে বিশ্বরেকর্ড প্রস্তাব দিয়েও লিভারপুলকে রাজি করাতে পারেনি। এছাড়া আল আহলি সৌদি এফসি ও আল হিলালও সালাহকে দলে নিতে আগ্রহী। লিভারপুলের সাবেক কোচ ব্রেন্ডন রজার্সের তত্ত্বাবধানে থাকা আল কাদসিয়াহও চমকপ্রদ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে অ্যানফিল্ডে সালাহ-পরবর্তী যুগের বাস্তবতা ধীরে ধীরে সামনে আসছে। প্রধান কোচ আর্নে স্লট স্বীকার করেছেন, ২৫০টির বেশি গোল করা একজন খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। স্লট বলেন, 'আমরা জানি অ্যান্ড্রু রবার্টসন এবং মো (সালাহ) চলে যাচ্ছে, তাই দুইজন খেলোয়াড় বদলাতে হবে। তবে আমরা এটাও জানি কস্টাস সিমিকাস ফিরছে। প্রথম লক্ষ্য হলো, মোর জায়গায় আমরা কীভাবে এগোব, একই ধরনের খেলোয়াড় আনব, নাকি ভিন্নভাবে সেই জায়গা পূরণ করব।'
সালাহর বিদায়ে মার্সিসাইডে এক সোনালি যুগের সমাপ্তি ঘটবে। নয় মৌসুমে তিনি ২৫৬ গোল করেছেন এবং প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ আটটি বড় শিরোপা জিতেছেন। ২০২৫ সালের লিগ শিরোপাই সম্ভবত লিভারপুলের হয়ে সালাহর শেষ ট্রফি হতে যাচ্ছে। মৌসুমের এই শেষভাগে সালাহ এখন অলরেডদের আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরানোর মিশনেই মাঠে নামবেন, এরপর হয়তো রিয়াদে রোনালদোর সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করবেন।
মন্তব্য করুন