বিনোদন ডেস্ক : অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় যে কয়টি নাম নিয়ে বিতর্ক উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম ইফফাত আরা তিথি। এই ঘটনার পর ইকরার পরিবার ও বান্ধবীরাও দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী তিথির সম্পর্কের জেরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ইকরা।
নেপাল থেকে দেশে ফিরে অভিনেতার সঙ্গে তার ‘সম্পর্ক’ প্রসঙ্গে তিথি নিজেও মুখ খুলেছিলেন। এবার ইকরার মৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কে নিজের নাম জড়ানোর বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলেন এ অভিনেত্রী। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক পোস্টে ইকরার সঙ্গে ব্যক্তিগত চ্যাটের ৪০টিরও বেশি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন তিথি। সেগুলো প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘ভেবেছিলাম, এগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করব না। প্রশাসনের প্রয়োজন হলে সেখানে দেব, সবার সম্মান রক্ষার্থে। কিন্তু আমাকে যেভাবে উত্ত্যক্ত করা হচ্ছে, আর চুপ থাকা গেল না। ইতোমধ্যে কিছু জায়গায় আমি অডিও বক্তব্য দিয়েছি।
নিজেরা খুব সাধু সাজতেছেন, আপনারা কি সেটার আমলনামাও আছে।’ তিথি দাবি করেন, আলভীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। পোস্টে ‘ইকরার সঙ্গে তার স্বাভাবিক যোগাযোগ ছিল’ দাবি করে তিথি জানান, ইকরার সঙ্গে তার নিয়মিত ও স্বাভাবিক কথাবার্তা হতো। পারিবারিক অশান্তি, ব্যক্তিগত হতাশা ও ডিপ্রেশনের বিষয়েও ইকরা বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে কথা বলেছেন।
স্ক্রিনশটগুলো প্রকাশ করে তিথি বলেন, ‘‘কারো সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে, সে আমেরিকা চলে যাবে। তখন আমি বরাবরই বলেছি, ‘চাইলেও যেতে পারবে না, তুমি আলভীকে ভালোবাসো, তুমি তার কুইন।’ তাহলে আত্মহত্যার জন্য আমি কিভাবে উসকানি দেব? যাই বলেন, এটা বলতে পারেন না যে আমি ওকে নিজের জীবন নেওয়ার জন্য উস্কে দিয়েছি। সে তার নিজের জীবন নিজে নিয়েছে, সন্তানটার কথা একটাবার মা হয়ে ভাবলে আজকে এই জীবনটা থাকত।”
অভিনেত্রীর পোস্টে ইকরার পরিবারের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তার দাবি, ইকরা নিজেই পরিবারের সঙ্গে দূরত্ব ও মানসিক কষ্টের কথা লিখেছিলেন। এ বিষয়ে তিথি লেখেন, ‘একটা মেয়ে যত যা–ই হোক নিজের বাবা–মাকে নিয়ে তো মিথ্যা বলবে না। আমি ওনাদের দোষ দিচ্ছি না। কিন্তু ইকরার মনে ওর পরিবার নিয়েও কষ্ট ছিল।
ওর ফিল হতো যে ওর পরিবার ওকে নিজের হালে ছেড়ে দিয়েছে। স্পষ্ট লিখেছে যে ২০১৮ সালে একবার ও আলাদা হয়ে গিয়েছিল এবং ওর বাবাকে বলেছিল যে ওকে বিদেশে পাঠিয়ে দিতে কিন্তু ওনারা সাপোর্ট করে নাই। সেই থেকে ওর মনে একটা ক্ষোভ তাদের নিয়ে, যা থেকে এরপর আর কোনো দিন সে মুখ ফুটে কিছু বলে নাই।’
পোস্টে তিথি আরও লেখেন- যদি তার কিছু হয়ে যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো যেন বিষয়টি তদন্ত করে। দীর্ঘ পোস্টের শেষাংশে ইকরার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিথি লেখেন, ‘আল্লাহ ওকে ভালো রাখুক। শান্তিতে রাখুক। ওর এই চিরনিদ্রা শান্তির হোক। আর দূর থেকেই রিযিককে এত দোয়া করুক, যাতে রিযিকের জীবনটা সুন্দর হয়।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাটকের শুটিংয়ের জন্য আলভী ও তিথি নেপালে যান। ২৭ ফেব্রুয়ারি ছিল তিথির জন্মদিন। বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়—তিথির জন্মদিন উদযাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আলভী। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইকরা মারা যান। এর পর থেকেই আলভী ও তিথির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
মন্তব্য করুন