Ads here
রিপোর্টার
প্রকাশ : Apr 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, কেমোথেরাপি না নিলে সর্বোচ্চ ৬ মাস বাঁচবেন যুবরাজ

স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ উইনার যুবরাজ সিংয়ের জীবনকাহিনি বহু প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করবে। ২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ‘প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ’ হওয়া থেকে শুরু করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আবার মাঠে ফেরা; যুবরাজের জীবন যেন এক সত্যিকারের নায়কের গল্প। এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, ক্যানসার শনাক্তের সময় তাকে বলা হয়েছিল, তিনি হয়ত আর মাত্র তিন থেকে ছয় মাস বাঁচবেন।

২০১১ বিশ্বকাপ চলাকালীনই যুবরাজ ক্যানসারে ভুগছিলেন, কিন্তু তিনি ব্যথা ও অনিশ্চয়তাকে উপেক্ষা করে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন। তবে বিশ্বকাপ শেষে তিনি বুঝতে পারেন তার শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন ছিল। ক্যারিয়ারের চূড়ায় থাকার সময় আপনি পাহাড়ের চূড়ায় থাকেন, তারপর হঠাৎই নিচে পড়ে যান। আমি দিল্লিতে ছিলাম। আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরে যাচ্ছিলাম। সৌরভ গাঙ্গুলি অবসর নিয়েছিলেন, আর আমার টেস্ট দলে জায়গা খালি হয়েছিল। সাত বছর ধরে আমি সেই জায়গার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমি বলেছিলাম, “আমি মরলেও খেলব, ওই জায়গা আমার চাই।” কিন্তু আমি ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলাম।’
 
তিনি আরও জানান, ‘ডাক্তার নিতেশ রোহাতগি আমাকে বলেছিলেন, “টিউমারটা তোমার হার্ট আর ফুসফুসের মাঝখানে আছে। তুমি যদি খেলতে যাও, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কেমোথেরাপি না করলে তোমার বাঁচার সময় তিন থেকে ছয় মাস।” তখনই আমি বুঝলাম, আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
 
 
 
 
এরপর যুবরাজ চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান, যেখানে তাকে বলা হয় তিনি হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। কিন্তু তার জেতার মানসিকতা তাকে হার মানতে দেয়নি।
 
তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম ডা. লরেন্স আইনহর্নের কাছে, যিনি ল্যান্স আর্মস্ট্রংয়ের চিকিৎসা করেছিলেন। প্রায় এক বছর লেগেছিল এটা মেনে নিতে যে আমি হয়তো আর খেলতে পারব না। মানসিকভাবে এটা আরও কঠিন ছিল। নিজেকে মোটিভেট করার কিছু দরকার ছিল। যদি আমি ক্রিকেট না খেলি, তাহলে আমি কে? আমি কিছুই না, এটাই আমি ভাবতাম।’
 
চিকিৎসার সময় তিনি নিয়মিত পুরোনো ম্যাচের ভিডিও দেখতেন। এই সময়ে অনীল কুম্বলে এবং শচীন টেন্ডুলকার তাকে দেখতে যান। কুম্বলে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন।
 
যুবরাজ বলেন, ‘আমি পুরোনো ভিডিও দেখতাম। অনিল কুম্বলে আমেরিকায় এসে আমার ল্যাপটপ বন্ধ করে বলেছিলেন, ‘স্বাস্থ্যের দিকে মন দাও, ভিডিও দেখা বন্ধ করো।’ শচীন আমাকে ইংল্যান্ডে দেখতে এসেছিলেন। ডা. আইনহর্ন আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন, “তুমি এই হাসপাতাল থেকে বের হবে এবং আর কখনো ক্যান্সারে ভুগবে না।”’
 
এরপর যুবরাজ ছয় মাসের মধ্যে ভারত দলে ফিরে আসেন এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেন। তিনি সেরা ফর্মে না থাকলেও একটি ম্যাচে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হন। এরপর জহির খানের সঙ্গে ফ্রান্সের ব্রিভে দুই মাস ফিটনেস ট্রেনিং করে আবারও দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন করেন। 


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড চালু করল এনবিআর

1

গণতন্ত্রকামী সবার এক হওয়ার সময় এসেছে: মির্জা ফখরুল

2

ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করে চোখ ভিজল সালমানের

3

জকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিতদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

4

লাখ লাখ উটকে কেন পাসপোর্ট দিচ্ছে সৌদি আরব?

5

ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ, সর্বোত্

6

বিশ্বকাপের আগে বিপদে ভারত

7

খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে জুবাইদা রহমান

8

শেখ হাসিনা অমানবিকভাবে গুম, খুন, নির্যাতন করেছেন: সালাহউদ্দি

9

এমএলএসের সেরা গোলরক্ষক ও আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারকে দলে ভেড়াল ই

10

সত্যিই পরিবর্তন চাইলে নেতৃত্বকে যুবসমাজে উন্মুক্ত করতে হবে এ

11

আজকের মুদ্রার রেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

12

সেই গণি জমাদ্দার দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন তারেক রহমান

13

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার কাছে পাত্তাই পেল না ওমান

14

আজকের মুদ্রার রেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

15

জামায়াত আমিরের সঙ্গে যে আলোচনা হলো চীনা রাষ্ট্রদূতের

16

কমছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি আয়, শিগগিরই ঘুরে দাঁড়ানোর ক্

17

সাহস থাকলে আমাকে ধরে নিয়ে যান, ট্রাম্পকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন

18

পদত্যাগের হিড়িক, কী আছে এনসিপির ভাগ্যে; যা বললেন রাজনৈতিক বি

19

ইসলামী ব্যাংক থেকে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে দুদকের ম

20