Ads here
রিপোর্টার
প্রকাশ : Jan 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খনিজ সম্পদের নতুন ‘পাওয়ার হাউস’ হওয়ার পথে সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে এবার খনিজ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছে সৌদি আরব। দেশটির দাবি, তাদের ভূগর্ভে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বিপুল খনিজ সম্পদ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণ, দস্তা, তামা এবং লিথিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান ‘রেয়ার আর্থ’ বা বিরল মৃত্তিকা খনিজ। 

এই খনিজগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম তৈরির অপরিহার্য উপাদান। বর্তমানে এই খাতের ৯৫ শতাংশেরও বেশি বাজার চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সৌদি আরবের এই বিশাল মজুত বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার মিনারেলস ফোরাম’-এ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চীন কয়েক দশকের কৌশলগত বিনিয়োগের মাধ্যমে এই খাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। তবে সৌদি আরব গত কয়েক বছরে খনিজ অনুসন্ধান খাতে তাদের বাজেট ৫৯৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। 

দেশটির ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার একটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে খনি শিল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি ‘মাআদেন’ ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী এক দশকে খনি ও ধাতু শিল্পে ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে খনি থেকে সম্পদ আহরণ ও প্রক্রিয়াকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে কয়েক দশক পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

সৌদি আরবের এই খনিজ উচ্চাকাঙ্ক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নজর কেড়েছে। বিশেষ করে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি করার চেষ্টা করছেন, তখন সৌদির সঙ্গেও কৌশলগত অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। 

গত নভেম্বরে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক খনিজ সহযোগিতা। এমনকি পেন্টাগনের সহায়তায় মার্কিন কোম্পানি ‘এমপি মেটেরিয়ালস’ সৌদি আরবে একটি নতুন শোধনাকার বা রিফাইনারি তৈরির জন্য মাআদেনের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র খনিজ প্রক্রিয়াকরণের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের সুলভ ও প্রচুর জ্বালানি এবং আরামকোর মতো কোম্পানির কারিগরি দক্ষতা। এটি দেশটিকে খনিজ প্রক্রিয়াকরণের একটি আঞ্চলিক হাবে পরিণত করতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবেশগত উদ্বেগের মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। 

শেষ পর্যন্ত এই খনিজ যুদ্ধ কেবল তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক লাভের জন্য নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতা ও প্রভাব বিস্তারের একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশত’ এমন প্রচারণায় যা বললেন মির্জ

1

নির্বাচন সফল করার বিষয়ে ইসিকে আশ্বস্ত করলেন আইজিপি

2

বিএনপি নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার নিজেরাই লঙ্ঘন করেছে: জামায়া

3

আঙুলে ভোটের ছাপ, নির্বাচনের ছবির ট্রেন্ডে তারকারা

4

ঢাকা-৯: ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

5

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, নতুন রেকর্ড রুপায়

6

কঙ্গোয় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়লো মন্ত্রীর বিমান!

7

মাদুরোকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ভেনেজুয়েলাকে সমর্থন চীন-রাশিয়

8

সরকারি ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিপণনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা

9

পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক লেনদেন বেড়েছে ৬৫ শতাংশ

10

কুবি পরিদর্শন করল জাইকা প্রতিনিধি দল, যৌথ গবেষণায় নতুন সম্ভা

11

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্র

12

সত্যিই পরিবর্তন চাইলে নেতৃত্বকে যুবসমাজে উন্মুক্ত করতে হবে এ

13

সিরিয়ায় সংখ্যালঘু নারীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ

14

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজের তদন্তের নির্দেশ / খেলতে গিয়ে রান্না ক

15

কুওমোকে সমর্থন ট্রাম্পের, মামদানি জয়ী হলে নিউ ইয়র্ক সিটির

16

পাক ব্রিগেড নিয়ে ট্রল বলি অভিনেতাদের

17

রিয়াল মাদ্রিদ যেন জিততেই ভুলে গেছে

18

বন্ধ শ্রমবাজার খোলা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও ব্যয় হ্রাসের সম্মতি

19

বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি এখন রিশাদ

20