Ads here
রিপোর্টার
প্রকাশ : Dec 7, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

প্রধান উপদেষ্টার কাছে খোলা চিঠি এএইচআরবি’র

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশের ওষুধশিল্পকে কৌশলগতভাবে রূপান্তর এবং জাতীয় স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা জোরদার করতে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ (এএইচআরবি)। এই নীতি বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি নজরদারির আহ্বানও জানানো হয়েছে।

রোববার (৭ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে এ নীতিকে ‘জাতীয় স্বার্থে শীর্ষ অগ্রাধিকার’ হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন এএইচআরবির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন।

চিঠিতে বলা হয়, দেশে এখন প্রায় সব ধরনের ওষুধ উৎপাদন সম্ভব হলেও এপিআইয়ের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেই ঝুঁকিতে পড়ে উৎপাদনব্যবস্থা ও জাতীয় স্বাস্থ্য–নিরাপত্তা। করোনাকালে এ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলা হয়- এপিআই, ভ্যাকসিন, আইভিডি এবং চিকিৎসা–সরঞ্জাম উৎপাদনে দ্রুত দেশীয় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজন গবেষণা–উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, প্রণোদনা দেওয়া এবং উৎপাদন সক্ষমতা অর্জনের পর ধাপে ধাপে আমদানি সীমিত করা।

চিঠিতে ১৯৮২ সালের জাতীয় ওষুধনীতি বাস্তবায়নকে ‘ঐতিহাসিক সফলতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রাজনৈতিক অঙ্গীকার, কঠোর তদারকি ও শক্ত নেতৃত্ব সে সময় ওষুধশিল্পে আমূল পরিবর্তন এনেছিল। এ উদাহরণ দেখায়, বড় নীতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃঢ় নেতৃত্ব অপরিহার্য।বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্ঞানভিত্তিক শিল্পে রূপান্তর না ঘটলে দেশের ট্যাক্স–জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে থাকবেই। ফার্মাসিউটিক্যাল খাত এই রূপান্তরের বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভারতে যেখানে মোট রপ্তানির ৫ শতাংশ আসে ওষুধশিল্প থেকে, বাংলাদেশে তা এখনো মাত্র ০.৫ শতাংশ। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোয়েল মকিয়ের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘জ্ঞানই আধুনিক অর্থনীতির প্রধান চালক’—তাই এ খাতকে টেকসই জ্ঞানভিত্তিক শিল্পে রূপান্তর জরুরি।

চিঠিতে এপিআই নীতি বাস্তবায়নে জরুরি পাঁচটি পদক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো- ১. প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত বাধা দূর। ২. আকর্ষণীয় প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই) স্কিম চালু। ৩. আর অ্যান্ড ডি–তে ধারাবাহিক সরকারি অনুদান। ৪. অ্যাকাডেমিয়া–ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা জোরদার। ৫. নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন। চিঠিতে বলা হয়, এ নীতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে এগোবে না, এজন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও দ্রুত তদারকি প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার সরাসরি নজরদারি নিশ্চিত হলে— এপিআই নীতি কাগুজে অবস্থায় আটকে থাকবে না। আমদানি নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। রপ্তানি বাড়বে, দশকের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্ত হবে। দক্ষ কর্মসংস্থান বাড়বে, ট্যাক্স–জিডিপি অনুপাতও উন্নত হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা, সক্ষমতা ও জনস্বাস্থ্য–নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত কৌশলগত রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার।’

 

 


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০২৬ সালে যাত্রা শুরু করে ২০২৫-এ নামল যে বিমান!

1

শীত শেষ হওয়ার আগেই চড়া সবজির বাজার

2

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

3

তারেক রহমানের সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ফোনালাপ

4

কারাবন্দি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন শশী থারুর

5

ঢাকায় শীত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

6

ড্যাফোডিল পলিটেকনিকে অনুষ্ঠিত হলো ‘নবীন বরণ ২০২৫’

7

নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্যাস সরবরাহ না হওয়ার কারণ জানাল তিতাস

8

দেশের অর্থনীতিতে বাড়ছে বাণিজ্য ঘাটতির চাপ

9

অভ্যুত্থান ‘নস্যাৎচেষ্টার’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো

10

উত্তরের ৯ জেলা সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে যেসব কর্মসূচি

11

এক হারে শেষ সব স্বপ্ন পাকিস্তানের

12

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র মিলবে আজ,

13

গবেষণায় পাবলিক-প্রাইভেট বৈষম্য দূর করার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্

14

বাংলাদেশের নাম মুছে আইসিসির নতুন বিশ্বকাপ সূচি

15

ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৫

16

ভারতের ছত্তিশগড়ে তুমুল সংঘর্ষ, ছয় মাওবাদী নিহত

17

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ১৮ নভেম্বর : ইসি সচিব

18

বিজয় দিবসে ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল চলাচল

19

টানা ১৫ দিন এভারকেয়ারে বেগম জিয়া, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় সর্বসাধারণ

20