রাজনীতি ডেক্স : ‘ফ্যাসিবাদীদের নাশকতা’ আখ্যা দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে নিজেদের মতো করে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আজ বৃহস্পতিবার কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকার কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী এবং চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আটটি দল। গতকাল বুধবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা।
আওয়ামী লীগের ডাকা কর্মসূচি ঘিরে মাঠে থাকবে বিএনপি। প্রকাশ্যের পরিবর্তে ক্ষমতাচ্যুত দলটির নাশকতা ঠেকাতে মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করবেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ নির্দেশনা তৃণমূল পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। থানা ও মহানগরে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে। আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের নেতৃত্বে ওয়ার্ড পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশ হবে বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে দলের কোনো পর্যায়ে নেতা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা বলেছেন, আমরা রাজনীতিকে মোকাবিলা করব রাজনীতি দিয়ে। কোনো সহিংসতা প্রশ্রয় দেব না।
কর্মসূচি নিয়ে মাঠে জামায়াতসহ আট দল
গতকাল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আট দলের বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে নাশকতার চক্রান্ত আখ্যা দিয়ে তা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার মাঠে থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।এ সময় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির নাশকতা ও অপতৎপরতা প্রতিরোধে আট দলের সর্বস্তরের জনশক্তি আজ বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী রাজপথে অবস্থান করবে।ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাইর পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদের হিংস্র রূপ আবারও দেখা দিয়েছে।
অগ্নিসন্ত্রাস, চোরাগোপ্তা হামলা, ককটেল হামলাসহ নানাভাবে ভয়ংকর দানবতুল্য সেই অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়েছে। এই শক্তিকে প্রতিহত করতেই হবে। সব রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।এদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির গত মঙ্গলবারই জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার তারা রাজপথে থাকবে। গতকাল সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে ঢাকা কলেজ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে বিক্ষোভ করবে তারা। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে একই কর্মসূচি করা হবে।
আ.লীগ দেখলেই ধরে পুলিশে দেবেন: হাসনাত আবদুল্লাহ
রাজধানীর বাংলামটর মোড়ে গতকাল প্রতিবাদ মিছিল করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর কমিটি। মিছিলে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী খুনিদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দেখবেন, তাদের আগুন-সন্ত্রাস দেখবেন বা জনগণের ক্ষতি করার পরিকল্পনা দেখবেন, তাদের ধরে পুলিশে দেবেন।তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে, শেখ হাসিনার বিচার হতে হবে, দুই হাজার মানুষ হত্যার বিচার হতে হবে।
এর আগে যারা আওয়ামী লীগকে কোনো ধরনের নরমালাইজ করার চেষ্টা করবে, তাদের জনগণ প্রতিরোধ করবে।এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তৃতা করেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান, সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার প্রমুখ।আজ কোনো কর্মসূচি দেয়নি এনসিপি। এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ আল আমিন সমকালকে বলেছেন, মূল দলের, ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির সবাই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় মাঠে থাকবে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় অবস্থান নেন এনসিপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী। এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী দলের সদস্য এমদাদুল হকসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অবস্থান নেন। পরে ‘জুলাই ঐক্যের’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বহদ্দারহাট মোড় থেকে ষোলশহর দুই নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
পরিস্থিতির জন্য দায়ী সরকার: বাম গণতান্ত্রিক জোট
ছয়টি বাম দল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটের কয়েক নেতা বলেছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতির জন্য সরকারের ব্যর্থতা দায়ী। এ সরকার তার ওপর অর্পিত নির্বাচন, সংস্কার ও বিচারের দায়িত্ব পালনের বদলে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে নজর দিয়েছে। ঐক্যের নামে তারা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অনৈক্য তৈরি করে ফ্যাসিবাদ ও পতিত স্বৈরাচারী অপশক্তির উত্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে। এরপরও বাম দলগুলো নিজেদের মতো করে মাঠের আন্দোলনে রয়েছে, থাকবে।
জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সমকালকে বলেছেন, ‘আমরা তো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে মাঠে ছিলাম। এখন আবার এই অপশক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে আন্দোলনে আছি। এ জন্য তো সরকারের ডাকের অপেক্ষায় বসে নেই। আগামীতেও একই অবস্থানে থাকব।’বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া জানান, আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তারা আগে থেকেই আন্দোলনে ছিলেন, ভবিষ্যতেও থাকবেন।
মন্তব্য করুন